Wednesday, July 19, 2017

উত্তরপ্রদেশে ‘বাংলাদেশি হঠাও’ অভিযান



নয়ডার আবাসন থে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।নয়ডার আবাসন থেকে বিক্ষোভকারীদের সরি
নয়ডার আবাসন থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে
ভারতের উত্তরপ্রদেশের নয়ডা শহরের একটি পরিবার তাদের গৃহপরিচারিকা জোহরা বিবিকে সারারাত ঘরে আটকে রেখে মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছিল। এর জের ধরে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। এ ঘটনায় ‘বাংলাদেশি হঠাও’ অভিযানে নেমেছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। ফলে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার থেকে নয়ডায় কাজ করতে যাওয়া প্রায় ৪০টি পরিবার প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পথে এসে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংখ্যালঘু ও বাংলাভাষী হওয়ায় তাদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

এ অভিযানে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী মহেশ শর্মা পুরোপুরি মদদ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ। রাজ্যের মানুষের হেনস্থার অভিযোগ কানে যেতেই তৎপর হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তৃণমূল সূত্রের খবর, নির্যাতিত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলতে একটি নারী প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মমতা রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনকে গোটা ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে জেনে তাকে জানাতে বলেন। প্রয়োজনে সংসদে বিষয়টি নিয়ে সরব হতেও বলা হয়েছে ওই সংসদ সদস্যকে। মুখ খুলেছে একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও।

গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনার সূত্রপাত। নয়ডার বাসিন্দা মিতুল শেট্টির বিরুদ্ধে তার গৃহপরিচারিকা জোহরাকে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। পরদিন সকালে জোহরার স্বামী-স্ত্রীর খোঁজে আত্মীয় ও পড়শিদের নিয়ে এসে ভেতরে ঢুকতে চাইলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। গৃহকর্ত্রী জোহরার নামে ১০ হাজার রুপি চুরি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বাড়িতে ভাংচুরের অভিযোগ দায়ের করেন। ওই ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জোহরার অভিযোগ, তাকে সারারাত আটকে রেখে মারধর করা হয়। সকালে সুযোগ বুঝে তিনি পালিয়ে যান। জোহরার অভিযোগ মানতে নারাজ উত্তরপ্রদেশ তথা কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি। প্রয়োজনে শেট্টি পরিবারের হয়ে আইনি লড়াই করার ঘোষণা দেন মহেশ শর্মা। তার দাবি, ‘এরা সবাই কোথাকার তা ভালো করেই জানা আছে। কারণ আমি নিজেও নয়ডার বাসিন্দা।’

হামলাকারীরা যাতে অন্তত ১ বছর জামিন না পায় তার ব্যবস্থা করবেন তিনি।ওই আবাসনে ফ্ল্যাট রয়েছে প্রায় দু’হাজার। কাজ করেন প্রায় ৬০০ পরিচারিকা। ঘটনার পরে অর্ধেকের বেশি পরিচারিকার সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। ভেঙে দেয়া হয়েছে তাদের ঝুপড়ি, খাবার দোকান। খেটে খাওয়া মানুষগুলোর দাবি, তার কোচবিহারের বাসিন্দা। ভোটার কার্ডও রয়েছে তাদের। তাতে অবশ্য কোনো কাজে আসেনি।

স্থানীয় প্রশাসনের অভিযোগ, এদের তাড়ানোই এখন লক্ষ্য বিজেপি সরকারের। মহেশে দাবি, ‘যারা এতে সাম্প্রদায়িকতার রং লাগানোর চেষ্টা করছেন তাদের আমাদের সংগঠনের সদস্যরাই দেখে নেবে।’ মদনলাল খুরানা যখন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন এভাবে বাংলাদেশি তাড়াও অভিযানে নেমেছিল বিজেপি সরকার। বাংলাদেশি অভিযোগে বহু লোকের মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয়েছিল। সেই ভয় আবার ফিরে আসছে খেটে খাওয়া বাঙালি পরিবারগুলোর ভেতরে।










No comments:

Post a Comment

Fun Video