Friday, July 21, 2017

চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত পরিকল্পনা মন্ত্রীকে নিউ ইয়র্কে অভিনন্দন!


বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক : চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে এসে সাংবাদিকদের অভিনন্দন পেয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের ফলে তিনি অসুস্থতা বোধ করছেন। এতে তাঁর কন্ঠস্বরও পরিবর্তন হয়েছে বলে বুধাবার বিকেলে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রী স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। জাতিসংঘের হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরামের সফলতা নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ মিশন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা বাংলা প্রেস।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে চিকুনগুনিয়া রোগ ছড়িয়ে পড়েছে এবং জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অনেকেরই মৃত ঘটেছে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগির মৃত্যুর কথা বারবার আস্বীকার করা হচ্ছে। চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত হবার মতো সত্য কথা অকপটে স্বীকার করায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত একজন সাংবাদিক পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
'দারিদ্র্য নির্মূল এবং পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা' প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ক জাতিসংঘের হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম (এইচএলপিএফ) এর কার্যক্রমে অংশ নিতে মন্ত্রী নিউ ইয়র্কে এসেছিলেন। গত ১০ জুলাই শুরু হওয়া নয় দিন ব্যাপী এ কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে গত ১৯ জুলাই বুধবার।পরিকল্পনা মন্ত্রীর নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ সম্মেলনে যোগ দেন।

ক্যারিয়ার হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং


বিধিতা ইসলাম থাকেন ধানমন্ডি, তিনি হচ্ছেন একজন গৃহিণী এবং দেড় বছর বয়সী মেয়ে সন্তানের মা। মেয়েকে নিয়েই সব কিছু তার।  স্বামী ও সংসারের পাশাপাশি বিধিতা চাচ্ছিলেন স্বাবলম্বী হতে। সংবাদ ও পত্র পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারেন ফ্রিল্যান্সিং এর কথা। তখন থেকেই সবসময় অনলাইনে এবং ইউটিউব এ খোঁজ করতেন ফ্রিল্যান্সিং শেখা যায় কিভাবে। শেষে ভাইয়ের  মাধ্যমে জানতে পারেন ‘শিখবে সবাই’ এর কথা। তারপর সেখানে ভর্তি হওয়ার এক মাসের মাথায় তার কাজের পোর্টফলিও দেখে তার একটি জবের অফার আসে। এরকম বিধিতার মতো অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
 
বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে আয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎস। বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ ঘরে বসে অথবা বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শিখতে পারবে। আর এই ফ্রিল্যান্সিং খাতে কর্মসংস্থানের নতুন উদ্যোগের নাম হচ্ছে ‘শিখবে সবাই’। এখানকার মেন্টররা হচ্ছেন বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের টপরেটেড ফ্রিলান্সারস।
 
মার্কেটপ্লেসে যে সকল কাজগুলো কাস্টমাররা অফার করে থাকেন সেই সকল কাজগুলোই এখানে প্রজেক্ট  এবং অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে দেয়া হয়। যে কেউ এখানে ভর্তি হয়ে বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। মার্কেটপ্লেসের সকল দক্ষতাগুলো কাজে লাগিয়ে এখানে ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়ার্ডপ্রেস, এসইও, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং অ্যান্ড্রয়েড কোর্সের উপর হাতে ধরে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রত্যেক কোর্সের সাথেই থাকছে ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন সাপোর্ট, ফ্রিল্যান্সিং টিম, সফটস্কিল ও ইংলিশ কমিউনিকেশন। তাদের মতে বাদ যাবে না কেউ, শিখবে সবাই।
 
যোগাযোগ: বাড়ি ৭৪, রাস্তা ৭, ব্লক এইচ, বনানি, ঢাকা-১২১৩।
 
মোবাইল: ০১৭৫৮০৬৬৩২৯
 
ওয়েবসাইট: www.shikhbeshobai.com
 
ফেসবুক পেজ: www.facebook.com/shikhbeshobai

Thursday, July 20, 2017

ভারতের নতুন প্রেসিডেন্ট রাম নাথ কোবিন্দ

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মীরা কুমারকে হারিয়ে দেশটির নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন রামনাথ কোবিন্দ।  আজ বৃহস্পতিবার ছিল ভোট গননা পর্ব।  সেখানে মীরা কুমারকে হারিয়ে দেশের ১৪ তম রাষ্ট্রপতি হলেন রামনাথ কোবিন্দ।  ইতিমধ্যে দেশের রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধিরা।  রামনাথ কোবিন্দ পেয়েছেন ৬৬ শতাংশ ভোট। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মীরা কুমার পেয়েছেন ৩৪ শতাংশ ভোট।
বেসরকারি ফলাফলে রামনাথ কোবিন্দ এগিয়ে আছেন বলে দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে। ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫৮৫ ইলেক্ট্ররাল কলেজ ভোট পেয়েছেন কোবিন্দ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মীরা কুমার পেয়েছেন ২ লাখ ৪ হাজার ৫৯৪ ইলেক্ট্ররাল কলেজ ভোট।
মেয়াদ শেষে ২৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়বেন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় দায়িত্ব পাওয়া প্রণব মুখার্জি।
পার্লামেন্ট ভবনের পাশাপাশি ২৯টি রাজ্যের বিধানসভা এবং দুটি ইউনিয়ন টেরিটোরিসহ মোট ৩২টি কেন্দ্রে সোমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়।
এবারের এই নির্বাচনে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে; যা এই নির্বাচনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে এক নির্বাচনী কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
৭৭৬ জন পার্লামেন্ট সদস্য এবং ৪ হাজার একশ ২০ জন এমএলএ-র মধ্যে কেবল মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র ভোটদানে অযোগ্য ঘোষিত হন। তার বিরুদ্ধে ‘টাকার বিনিময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ করানোর’অভিযোগ ছিল।
বিভিন্ন রাজ্যের আইনপ্রণেতাদের ভোটের মান তাদের রাজ্যের জনসংখ্যার ওপর নির্ভর করে। তবে পার্লামেন্ট সদস্যদের সবার ভোটের মান সমান (৭০৮)।
আনুষ্ঠানিক ফলাফর ঘোষণার অনেক আগে থেকেই কানপুরের নিকটবর্তী পারাউঙ্খে রাম নাথের বাড়িতে গান ও বাদ্য বাজিয়ে উৎসব চলছে, পাশাপাশি চলছে দেদার মিষ্টি বিতরণ।
নির্বাচনী প্রচারের সময় কৃষকের সন্তান ৭১ বছর বয়সী রাম নাথের সাদাসিদে জীবনযাপনকে তুলে ধরেছেন বিজেপি নেতারা। হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের পরিচিত আইনজীবি রাম নাথ বিহারের গভর্নর ছাড়াও দুই দফা রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন।
১৯৪৫ এর ১লা অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের কানপুরের দেহাত জেলার একটি ছোট্ট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রামনাথ কোবিন্দ।  দলিত কোলি সম্প্রদায়ের মানুষ তিনি।  মূলত চাষী পরিবারের সন্তান কোবিন্দ হাইস্কুল পার করে কমার্স নিয়ে স্নাতক পড়েন।  মাত্র তিন বারের চেষ্টায় রামনাথ কোবিন্দ IAS পরীক্ষায় পাশ করেন।
কিন্তু চাকরিতে যোগ না দিয়ে সিদ্ধান্ত নেন LLBকরবেন।  এরপর কানপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনি পড়াশুনা শেষ করে দিল্লি হাই কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকারের উকিল পদে যোগদান করেন তিনি।  সুপ্রিম কোর্টের স্টান্ডিং কাউন্সিলে ছিলেন ১৯৮০ থেকে ৯৩ সাল পর্যন্ত।  তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মুরারজি দেশাইয়ের ব্যক্তিগত সহকারীও ছিলেন।
প্রথম থেকেই তিনি দলিত সম্প্রদায়ের হয়ে লড়াই করে এসেছেন।  রাজনীতিতে আসেন ভারতীয় জনতা পার্টির হাত ধরে।  উত্তর প্রদেশে রাজ্য সভার সদস্যও ছিলেন কোবিন্দ।২০১৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি তাঁকে বিহারের রাজ্যপাল নিযুক্ত করেন।  কোবিন্দ ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় মুখপাত্রও ছিলেন।

সৌদি আরবে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক রদ-বদল

সৌদি আরবে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জড়িত পদগুলোতে ব্যাপক রদ-বদল এনেছেন সৌদি বাদশাহ সালমান।

আরবে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জড়িত পদগুলোতে ব্যাপক রদ-বদল এনেছেন সৌদি বাদশাহ সালমান। উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন।
রাজকীয় নিরাপত্তা দেখ-ভাল করার কাজে নিয়োজিত বাহিনীর প্রধানকেও সরিয়ে দিয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নতুন আরেকজনকে।
ক'দিন ধরেই রদবদলের খবর আসছে তেল সমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরব থেকে।
ভ্রাতুষ্পুত্রের জায়গায় নিজের পুত্রকে আকস্মিক যুবরাজ ঘোষণার খবর পুরনো হতে না হতেই এবার এসেছে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার খবর।
রাজ-নিরাপত্তার সাথে জড়িত উঁচু পদগুলোতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন সৌদি বাদশাহ সালমান।
নতুন করে গঠন করেছেন একটি নিরাপত্তা এজেন্সি বা 'সিকিউরিটি কাউন্সিল'।
এই এজেন্সিতে, একই ছাতাতলে কাজ করবে কাউন্টার টেররিজম এন্ড ডোমেস্টিক ইন্টেলিজেন্স বা সন্ত্রাস বিরোধী ইউনিট এবং সৌদির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা-বাহিনী।
রাজ-নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর প্রধানকে-ও তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে নতুন আরেকজনকে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান, যিনি মাত্র ক'দিন আগেই আকস্মিকভাবে যুবরাজ হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন, তার টিমেও এসেছে পরিবর্তন।
বাদশাহ সালমানের ভাতিজা মোহাম্মদ বিন নায়েফ-এরই যুবরাজ এবং ভবিষ্যতে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু হঠাৎ করেই সিংহাসনের উত্তরাধিকারীর দায়িত্ব পান বাদশার নিজের পুত্র সালমান।
সৌদি নিরাপত্তাখাতে যে ব্যাপক রদবদল এসেছে, তা জানা গেছে বৃহস্পতিবারে, রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ-এর প্রকাশিত খবরের বরাতে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সম্প্রতি যে সব পরিবর্তন এসেছে তার সাথে সঙ্গতি রেখে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুতি রাখতেই আনা হয়েছে এই পরিবর্তন।
নতুন যে সিকিউরিটি এজেন্সি গঠিত হয়েছে এর প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুলাজিজ বিন মোহাম্মদ আল-হাওয়াইরিনি।
নতুন এই এজেন্সির সকল তথ্য জানিয়ে এই জেনারেল সরাসরি সৌদি বাদশার কাছে রিপোর্ট করবেন।
রয়াল গার্ডের জেনারেল হামাদ আল-আওহালীর জায়গায় স্থালিভিষিক্ত হয়ে নতুন প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন জেনারেল সুহেইল আল-মুতিরি।
আর এজেন্সি প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ আল-কুয়ওয়াইজ।


সিডনিতে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশি কয়েকটি সংগঠনের অনুষ্ঠান

অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশির বসবাস সিডনিতে। বাঙালিদের প্রাণকেন্দ্র সিডনি। শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও বিভিন্ন সময় দেশীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর উৎসব উদ্‌যাপন করেন এখানকার বাঙালিরা। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি ও আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হবে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান। প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটি আয়োজিত এ সব অনুষ্ঠান-উৎসবের খবর থাকছে আজ।
আগামী ৩০ জুলাই সিডনির মিন্টোতে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের তহবিল সংগ্রহার্থে শীতের পিঠা মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মিন্টোর ৮ বেনহাম রোডের স্কুল ক্যাম্পাসেই সকাল ১০টা থেকে বিকেল ২টা পর্যন্ত চলবে এ মেলা। কোনো প্রবেশ মূল্য ছাড়াই উপভোগ করতে পারবেন বাংলাদেশি হরেক রকমের পিঠা। এ ছাড়া থাকবে স্কুলের শিক্ষার্থী ও সিডনির স্বনামধন্য বাংলাদেশি শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আগামী ২৩ জুলাই সিডনির সাংস্কৃতিক সংগঠন পথ প্রোডাকশন তাদের সাম্প্রতিক সফলতায় আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে জমকালো এক রাত উদ্‌যাপন করতে যাচ্ছে রকডেলের রেড রোজ ফাংশন সেন্টারে।

আগামী ২৯ জুলাই সিডনির ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের সায়েন্স থিয়েটারে আয়োজন করা হয়েছে দুই বাংলার গান নিয়ে সংগীতানুষ্ঠানের। পশ্চিমবঙ্গের কণ্ঠশিল্পী অনুপম রায় ও তাঁর দল এবং বাংলাদেশ থেকে আসছেন তরুণ কণ্ঠশিল্পী স্বপ্নীল সজীব। স্টার ভিশন অস্ট্রেলিয়ার আয়োজনে কনসার্টটি সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে।
লাকেম্বায় বাংলা ঈদ মেলা
আগামী ১৯ আগস্ট লাকেম্বা হ্যাল্ডন স্ট্রিটের লাকেম্বা ইউনিটিং চার্চে আয়োজন করা হয়েছে বাংলা ঈদ মেলার। সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে মেলাটি। মেলায় পোশাক ও অলংকারাদির স্টলসহ থাকবে খাবারের স্টলও।
আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে রকডেল ঈদ মেলা। সিডনি রকডেলের রেড রোজ ফাংশন সেন্টারে আয়োজিত এই মেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। থাকছে বাহারি বাঙালি পোশাক ও খাবারের বিভিন্ন স্টল।
সিডনি টি ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ আগস্ট রোববার রেডফার্ন-ইভলির ২৪৫ উইলসন স্ট্রিটের ক্যারিএজওয়ার্কে। প্রতি বছর চা শিল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে সিডনি ও মেলবোর্নে আয়োজিত হয় এই চা উৎসবের। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। বাংলাদেশি চাপ্রেমীরা ঘুরে আসতে পারেন হরেক চা শিল্পের এই উৎসবে।

আবুধাবির বাংলা স্কুলে নোবেলজয়ী তানিগুচি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বাংলা স্কুলে কৃষি বিষয়ক প্রকল্প গ্রিন হাউস উদ্বোধন করেছেন নোবেল বিজয়ী পরিবেশবিদ অধ্যাপক তামিহিরো তানিগুচি। স্কুল প্রাঙ্গণে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ ও তরুলতা সংরক্ষণ, রুক্ষ আবহাওয়ায় শস্য উৎপাদন নিয়ে গবেষণার লক্ষ্যে এ গ্রিন হাউস উদ্বোধন করা হয়।
তানিগুচি ২০০৫ ও ২০০৭ সালে নোবেলজয়ী পরিবেশবিদ, জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান, নিউক্লিয়ার এনার্জি বিশেষজ্ঞ ও গ্লোবাল মিশনের বিশেষ পরামর্শক অধ্যাপক।
আবুধাবির বাংলা স্কুল আর তিন বছর পরই চার দশকে পা রাখবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি অন্য পরিসরেও প্রবাসের এই প্রতিষ্ঠানটির দখল কম নয়। ২০০৫ সালে এখানে প্রতিষ্ঠা পায় পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন নিসর্গ। যার সঙ্গে আবুধাবি এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি সরাসরি যুক্ত। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই তথ্যগুলো আসছিল। আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মীর আনিসুল হাসান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নিসর্গর সমন্বয়ক ড. আনিতা সাওল।
এ দেশের সরকারও পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টিতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এক জায়গায় নিয়ে আসে। শিক্ষা কার্যক্রমের অনিবার্য দিক হিসেবে এই ক্ষেত্রটিকে তারা বিশেষ গুরুত্ব দেয়। বাংলা স্কুল চলেছে এরই সমান্তরালে। স্কুলটি এ দেশের পরিবেশ বিষয়ক প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধিত হয়েছে। এটা এ দেশে টেকসই প্রকল্পে উদ্যোগ গ্রহণ করারই ইতিবাচক ফল। বাংলা স্কুল এখন পরিবেশ সুরক্ষায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে শিক্ষায়তনগুলোর মধ্যে নেতৃত্ব দানকারী প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে। আবুধাবির এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি কর্তৃক পরিবেশ প্রশিক্ষণের জন্য নিবন্ধিত ১২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলা স্কুল এখন আলাদা মর্যাদায় ভাস্বর।
স্কুলটির কৃতিত্বের ঝোলা এখন কম ভারী হয়নি। ২০১৩ সালে স্কুলটি বৈশ্বিক পর্যায়ে পরিবেশ বিষয়ে অবদানের জন্য এক লাখ ডলার মূল্যের সম্মানজনক ‘যায়েদ ফিউচার এনার্জি পুরস্কার’ পায়। মাটি, বায়ু, পানি ও বর্জ্য নিয়ে তারা তাদের পরীক্ষা অব্যাহত রাখে। এ জন্য পুরস্কারও জোটে। ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে পরিবেশ বিষয়ক উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য পায় সাসটেইনেবল স্কুল ইনিশিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ড।
গ্রিন হাউস উদ্বোধনের পর সবাই মিলে অধ্যাপক তামিহিরো তানিগুচিকে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের সোলার প্যানেল পরিদর্শন করেন। পুরস্কারের অর্থ দিয়েই ২০১৩ সালে এই প্যানেল নির্মাণ করা হয়।
আয়োজনে আলোচনা পর্বটি ছিল সংক্ষিপ্ত। এতে বক্তব্য দেন যায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. অধ্যাপক হাবিবুল হক খোন্দকার, বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার ইকবাল হোসেন খান, আবুধাবি এডুকেশন কাউন্সিলের প্রোগ্রাম ম্যানেজার রুবি মাহমুদ, এমিরেটস এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির কর্মকর্তা মিস মোনা, গ্লোবাল মিশনের চেয়ারম্যান খালেদ সিদ্দিক আল মুতাওয়া ও স্কুলের লোকাল স্পনসর খালিদ সাইয়িদ খালফান আল মানসুরি।

Wednesday, July 19, 2017

পৃথিবী দ্রুতই পরিণত হচ্ছে একটি 'প্লাস্টিকের তৈরি গ্রহে

প্লাস্টিকের অধিক উৎপাদন এবং খোলা প্রকৃতিতে এর দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বাড়ছে আশংকাজনক হারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের হিসেব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত উৎপাদিত প্লাস্টিকের পরিমাণ ৮.৩ বিলিয়ন টন। আর তাদের হিসেবে ২০৫০ সাল নাগাদ প্লাস্টিকের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ বিলিয়ন টন।
কোনোই সন্দেহ নেই যে প্লাস্টিক একটি অতি আশ্চর্য উপাদান।
স্থায়িত্ব এবং উপযোগিতার কারণেই ইস্পাত, সিমেন্ট এবং ইট ছাড়া মানুষের তৈরি আর সব কিছু থেকে এই জিনিসটির উৎপাদন হার বেশি। আর সেই সংখ্যাটি হলো ৮.৩ বিলিয়ন টন! যা কিনা নিউ ইয়র্কের ২৫ হাজার এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং-এর সমান। কিংবা ১ বিলিয়ন হাতির ওজনের সমপরিমাণ।
আর এই বিশাল পরিমাণ উৎপাদিত প্লাস্টিকের প্রায় ৭৯ শতাংশই ছড়িয়ে পড়েছে খোলা প্রকৃতিতে। প্লাস্টিক বর্জ্যে দিনে দিনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ।
ড. রোল্যান্ড গেয়ার নামের এক বিশেষজ্ঞ বিবিসিকে বলেছেন, "এই পৃথিবী খুব দ্রুতই পরিণত হবে একটি প্লাস্টিকের তৈরি গ্রহে। আর যদি আমরা এমনটা না চাই, তাহলে বিশেষ করে প্লাস্টিকের তৈরি জিনিস ব্যবহারে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে" বলেই তাঁর মত।
সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার একদল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোলজিস্ট প্লাস্টিকের উৎপাদন এবং ব্যবহার ও দূষণ সম্পর্কে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন।
আর তাতে দেখা যাচ্ছে যে, এই বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক পণ্যের অন্তত অর্ধেক উৎপাদন হয়েছে গত ১৩ বছরে।
বাতিল প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার হয়েছে শতকরা মাত্র ৯ভাগ। ১২শতাংশকে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে আর বাকিটা ছড়িয়ে পড়েছে প্রকৃতিতে। আশংকাজনক হারে ছড়িয়েছে সাগর মহাসাগরে। গবেষণা দেখা গেছে যে, ২০১৪ সালে রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য হার ইউরোপে ছিল শতকরা ৩০ভাগ। সবচেয়ে কম রিসাইক্লিং হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, মাত্র ৯ শতাংশ। আর এই অধিকহারে উৎপাদন শুরু হয় ১৯৫০ এর সময় থেকে।
যেহেতু প্লাস্টিক পণ্য পচনশীল নয়, তাই বিশেষজ্ঞদের মতে এটিকে অত্যন্ত তাপ প্রয়োগ করে নি:শেষ করে দেয়া দরকার।
কিন্তু তারচেয়েও বেশী জরুরি প্লাস্টিকের সঠিক প্রয়োজন নিরুপণ করে তারপর এর উৎপাদনে যাওয়া। আর এর জন্যে দরকার একটি সমন্বিত আলোচনা।

মালয়েশিয়ায় অবৈধদের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বৈধ হতে হবে


অনলাইন ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী অবৈধ অভিবাসীদের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বরের  মধ্যে বৈধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম।
স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাইকমিশনার এ আহ্বান জানান।
শহীদুল ইসলাম বলেন, মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অবৈধ বাংলাদেশিদের ভাগ্য নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। আশা করছি, ভালো কিছু রেজাল্ট পাওয়া যাবে। তবে রি-হিয়ারিংয়ের জন্য এখনো পাঁচ মাস সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তাদের সঙ্গে আরো বৈঠক হবে।
হাইকমিশনার বলেন, অবৈধ ব্যক্তিদের ধরপাকড় যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার নিয়মিত, স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া। তবে মালিকপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যেসব শ্রমিক রি-হিয়ারিংয়ে আওতায় অংশ নিতে ইমিগ্রেশনে যাবে, তাদের কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।
এর আগে সোমবার কুয়ালালামপুরে হাইকমিশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়। বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার ওয়াহিদা আহমেদ ও শ্রম শাখার প্রথম সচিব মো. হেদায়েতুল ইসলাম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক মোস্তাফার আলী বলেন, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশিরা রি-হিয়ারিং প্রক্রিয়ার আওতায় বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন। ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক এই সুযোগ গ্রহণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ই-কার্ড প্রক্রিয়ায় এক লাখ অবৈধ বাংলাদেশি নিবন্ধিত হয়েছেন এবং দুই লাখ ৯৩ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি রি-হিয়ারিংয়ের আওতায় নিবন্ধিত হয়েছে। অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক এর প্রশংসা করেন এবং উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতার এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলেও জানান।
এদিকে বাংলাদেশ থেকে পর্যটক, পেশাজীবী বা ব্যবসায়িক ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়ায় কাজ করার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে দেশটির অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক। তিনি অনুরোধ করেন, সঠিক শ্রেণির ভিসা নিয়ে যেন বাংলাদেশিরা মালয়েশিয়ায় আসে। এতে বিমানবন্দরে তাদের হয়রানির মুখোমুখি হতে হবে না।
সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্পে তিন থেকে ছয় মাস মেয়াদে ১৫ জন, ছয় থেকে ১২ মাস মেয়াদে চারজন এবং এক বছর মেয়াদে সাতজন সম্ভাব্য বাংলাদেশি আটক রয়েছে।
এদিকে গত এক সপ্তাহে ৩১ হাজার ৯৮৪ জনকে কন্স্যুলার সেবা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি সপ্তাহান্তে নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কন্স্যুলার ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলেও জানান হাইকমিশনার। তিনি অভিবাসীদের প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ারও আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের ডিফেন্স উইং প্রধান এয়ার কমডোর হুমায়ূন কবির, পলিটিক্যাল মিনিস্টার রাইস হাসান সারোয়ার, পাসপোর্ট ও ভিসা শাখার ফাস্ট সেক্রেটারি মো. মশিউর রহমান তালুকদার, দ্বিতীয় সচিব তাহমিনা ইয়াছমিন, শ্রম শাখার দ্বিতীয় সচিব মো. ফরিদ আহমদ।
গত ৩০ জুন থেকে পুলিশের অভিযানে প্রায় দেড় হাজার বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই পটভূমিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে অবৈধ বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তার না করার সিদ্ধান্ত হয়।

মানব পাচারের দায়ে থাই জেনারেলের ২৭ বছরের কারাদণ্ড


মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে থাই সেনাবাহিনীর এক লেফটেন্যান্ট জেনারেলকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। মানাস কংপেন নামের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানব পাচার ছাড়াও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তিনি মানবপাচারকারীদের অপেক্ষাকৃত নিরাপদ রুট থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

জেনারেল মানাস কংপেন পাচারকারীদের কাছ থেকে থাই মুদ্রায় ১৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন বাথ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় তিন কোটি ৫৬ লাখ। এই অর্থের বিনিময়ে তিনি পাচারকারীদের জঙ্গলের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ক্যাম্পে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দিতেন।
মোট ১০৩ অভিযুক্তের বাকিদের বিরুদ্ধেও ১৯ জুলাই বুধবার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিস্তারিত রায় পেতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রাজনীতিক এবং পুলিশ কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
দোষী সাব্যস্ত হওয়া অন্যদের আন্তঃদেশীয় অপরাধ, বলপূর্বক আটকে রেখে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া এবং ধর্ষণের দায়ে মতো অপরাধ সংঘটনের দায়ে সাজা দেওয়া হয়েছে।

২০১৫ সালে থাই-মালয়েশীয় সীমান্ত এলাকার জঙ্গলে গণকবর শনাক্তের পর পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মানাস কংপেন, পুলিশ কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং মিয়ানমারের নাগরিকরা রয়েছেন। ওই ঘটনার পর মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ায় পাচার করার এবং আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়গুলো সামনে আসে। ওই বছরই বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাচারকারীরা বিভিন্ন ক্যাম্পে শরণার্থীদের জিম্মি হিসেবে আটকে রাখে এবং স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের ছাড়ে না। অনেকেই শেষ পর্যন্ত মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হন। তখন সেইসব শরণার্থীদের মানবেতর ক্যাম্পে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায় পাচারকারীরা। তবে এখন পর্যন্ত গণকবর শনাক্ত হওয়া এবং ময়না তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি থাইল্যান্ড।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ২০১৫ সালের ধরপাকড় বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর পাচারকারী নেটওয়ার্কের অনেকগুলোই অধরা রয়েছে। ফর্টিফাই রাইটসের নির্বাহী পরিচালক অ্যামি স্মিথ বলেন, “আমরা মনে করি ওই ধরপাকড়ের মধ্য দিয়ে পাচারকারী সংগঠনগুলোকে কেবল ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া গেছে। কিন্তু এখনও সেগুলো বেশ সক্রিয় আছে।” সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি।

উত্তরপ্রদেশে ‘বাংলাদেশি হঠাও’ অভিযান



নয়ডার আবাসন থে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।নয়ডার আবাসন থেকে বিক্ষোভকারীদের সরি
নয়ডার আবাসন থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে
ভারতের উত্তরপ্রদেশের নয়ডা শহরের একটি পরিবার তাদের গৃহপরিচারিকা জোহরা বিবিকে সারারাত ঘরে আটকে রেখে মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছিল। এর জের ধরে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। এ ঘটনায় ‘বাংলাদেশি হঠাও’ অভিযানে নেমেছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। ফলে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার থেকে নয়ডায় কাজ করতে যাওয়া প্রায় ৪০টি পরিবার প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পথে এসে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংখ্যালঘু ও বাংলাভাষী হওয়ায় তাদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

এ অভিযানে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী মহেশ শর্মা পুরোপুরি মদদ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ। রাজ্যের মানুষের হেনস্থার অভিযোগ কানে যেতেই তৎপর হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তৃণমূল সূত্রের খবর, নির্যাতিত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলতে একটি নারী প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মমতা রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনকে গোটা ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে জেনে তাকে জানাতে বলেন। প্রয়োজনে সংসদে বিষয়টি নিয়ে সরব হতেও বলা হয়েছে ওই সংসদ সদস্যকে। মুখ খুলেছে একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও।

গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনার সূত্রপাত। নয়ডার বাসিন্দা মিতুল শেট্টির বিরুদ্ধে তার গৃহপরিচারিকা জোহরাকে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। পরদিন সকালে জোহরার স্বামী-স্ত্রীর খোঁজে আত্মীয় ও পড়শিদের নিয়ে এসে ভেতরে ঢুকতে চাইলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। গৃহকর্ত্রী জোহরার নামে ১০ হাজার রুপি চুরি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বাড়িতে ভাংচুরের অভিযোগ দায়ের করেন। ওই ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জোহরার অভিযোগ, তাকে সারারাত আটকে রেখে মারধর করা হয়। সকালে সুযোগ বুঝে তিনি পালিয়ে যান। জোহরার অভিযোগ মানতে নারাজ উত্তরপ্রদেশ তথা কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি। প্রয়োজনে শেট্টি পরিবারের হয়ে আইনি লড়াই করার ঘোষণা দেন মহেশ শর্মা। তার দাবি, ‘এরা সবাই কোথাকার তা ভালো করেই জানা আছে। কারণ আমি নিজেও নয়ডার বাসিন্দা।’

হামলাকারীরা যাতে অন্তত ১ বছর জামিন না পায় তার ব্যবস্থা করবেন তিনি।ওই আবাসনে ফ্ল্যাট রয়েছে প্রায় দু’হাজার। কাজ করেন প্রায় ৬০০ পরিচারিকা। ঘটনার পরে অর্ধেকের বেশি পরিচারিকার সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। ভেঙে দেয়া হয়েছে তাদের ঝুপড়ি, খাবার দোকান। খেটে খাওয়া মানুষগুলোর দাবি, তার কোচবিহারের বাসিন্দা। ভোটার কার্ডও রয়েছে তাদের। তাতে অবশ্য কোনো কাজে আসেনি।

স্থানীয় প্রশাসনের অভিযোগ, এদের তাড়ানোই এখন লক্ষ্য বিজেপি সরকারের। মহেশে দাবি, ‘যারা এতে সাম্প্রদায়িকতার রং লাগানোর চেষ্টা করছেন তাদের আমাদের সংগঠনের সদস্যরাই দেখে নেবে।’ মদনলাল খুরানা যখন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন এভাবে বাংলাদেশি তাড়াও অভিযানে নেমেছিল বিজেপি সরকার। বাংলাদেশি অভিযোগে বহু লোকের মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয়েছিল। সেই ভয় আবার ফিরে আসছে খেটে খাওয়া বাঙালি পরিবারগুলোর ভেতরে।










Fun Video